মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
:quality(90)/)
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস কী ?

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) একটি স্নায়ু রোগ, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মায়েলিন নামক স্নায়ুর সুরক্ষা স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, হাঁটার অসুবিধা, ভারসাম্যহীনতা, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা এবং দৈনন্দিন কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস থেকে সৃষ্ট অক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাক ে এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন হতে পারে।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস কত ধরণের হয়ে থাকে ?
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) প্রধানত চার ধরনের হয়ে থাকে, যা রোগের গতিপ্রকৃতি ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা হয়।
ক্লিনিক্যালি আইসোলেটেড সিনড্রোম (Clinically Isolated Syndrome - CIS): এটি এমএস-এর প্রথম পর্ব, যেখানে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এমএস-এর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
রিল্যাপসিং-রেমিটিং এমএস (Relapsing-Remitting MS - RRMS): এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এতে হঠাৎ উপসর্গের প্রকোপ বাড়ে (রিল্যাপস), এরপর আবার পুরোপুরি বা আংশিক সুস্থ (রেমিশন) হয়ে যায়। প্রায় ৮৫% এমএস রোগী প্রথমে RRMS হিসেবে শনাক্ত হন।
প্রাইমারি প্রগ্রেসিভ এমএস (PPMS): PPMS-এ শুরু থেকেই উপসর্গ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, এখানে প্রাথমিক রিল্যাপস বা রিমিশন দেখা যায় না। প্রায় ১৫% এমএস রোগী PPMS হিসেবে শনাক্ ত হন।
সেকেন্ডারি প্রগ্রেসিভ এমএস (SPMS) : অনেক ক্ষেত্রে RRMS-এ আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরবর্তীতে SPMS-এ রূপান্তরিত হয়। এই পর্যায়ে স্নায়বিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে খারাপ হয় এবং সময়ের সাথে সঙ্গে অক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস)-এর লক্ষণগুলি কী কী ?
:quality(90)/)
চলাফেরা ও ভারসাম্য→ দীর্ঘ সময় / পথ হাঁটতে সমস্যা, প্রায়ই হোঁচট খাওয়া বা পড়ে যাওয়া, পায়ে টান বা শক্ত হয়ে যাওয়া।
দৃষ্টিগত সমস্যা→ চোখে ঝাপসা দেখা, একই জিনিস দুইটা দেখা, চোখ নাড়ালেই ব্যথা হওয়া।
হাতের কার্যক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ → লিখতে অসুবিধা, জামার বোতাম লাগানো বা রান্না করতে কষ্ট হওয়া।
চিন্তা ও স্মৃতিশক্তি → চিন্তায় ধীরগতি, সিদ্ধান্তহীনতা, কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া, ভুলে যাওয়া, একসাথে একাধিক কাজ করতে সমস্যা হওয়া।
কথা বলা ও গিলতে সমস্যা → কথা জড়িয়ে যাওয়া, খাবার বা পানীয় গিলতে গিয়ে সমস্যা হওয়া অথবা শ্বাসরোধ হওয়া।
প্রস্রাব ও পায়খানা সংক্রান্ত সমস্যা→ হঠাৎ চাপ অনুভব করা, প্রস্রাব ও পায়খানা ধরে রাখতে না পারা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
ক্লান্তি → পরিপূর্ণ বিশ্রামের পরও দূর্বলতা অনুভব হওয়া
এমএস রোগ কিভাবে নির্ণয় করা হয় ?
এমএস নির্ণয়ের জন্য কোনো একক পরীক্ষা নেই। ডাক্তাররা রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং বিশেষায়িত কিছু পরীক্ষা মিলিয়ে এটি নিশ্চিত করেন।
এমআরআই (MRI)
সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা (Cerebrospinal Fluid Test)
অপটিক াল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি (Optical Coherence Tomography)
এভোকড পোটেনশিয়াল পরীক্ষা (Evoked Potential Tests)
রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests)
নিউরোসাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা (Neuropsychological Tests)
এমএস নির্ণয়ের জন্য কেন একজন নিউরোলজিস্টের কাছে যাওয়া জরুরি ?
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যার উপসর্গ অন্যান্য রোগের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে একজন সাধারণ চিকিৎসক উপসর্গগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারেন, তবে সঠিক নির্ণয় নিশ্চিত করতে হলে একজন নিউরোলজিস্টের প্রয়োজন। এমআরআই, লাম্বার পাংচার এবং নার্ভ স্টাডির মতো বিশেষায়িত পরীক্ষার মাধ্যমে, ম্যাকডোনাল্ড ক্রাইটেরিয়া অনুসরণ করে শুধুমাত্র নিউরোলজিস্টই নিশ্চিতভাবে এমএস নির্ণয় করতে পারেন।
সঠিক সময়ে সঠিক নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এটি উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করে, পুনরাক্রমণ কমায় এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়তা করে।
কিভাবে বুঝবেন এমএস এর কারণে শারীরিক ক্ষমতা কমে যাচ্ছে?
শারীরিক ক্ষমতা কমে যায় দুইভাবে:
পুনরাক্রমণ (Relapses) → হঠাৎ লক্ষণ খারাপ হওয়া, পরে কিছুটা সুস্থ হওয়া।
ধীরে ধীরে অবনতি (Progression) → মাস বা বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্ষমতা কমে যাওয়া।
কখন দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ?
নতুন করে অথবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি খারাপ হওয়া
পেশীর দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব হওয়া
তীব্র ক্লান্তি অনুভব হওয়া
খাবার বা পানীয় গিলতে অসুবিধা হওয়া
মূত্রথলি বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা
কিভাবে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস- এ শারীরিক অক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ?
ঔষধ → শারীরিক অক্ষমতার অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে।
ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম → পেশী শক্ত রাখে, ভারসাম্য বজায় রাখে, জড়তা কমায়।
অকুপেশনাল থেরাপি → দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য শরীরকে মানিয়ে নিতে সহায়তা করা (বিশেষ সরঞ্জাম এর ব্যবহার, বাড়ির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন)।।
স্পিচ থেরাপি → কথা বলা ও গিলতে সক্ষমতা উন্নয়ন ।
সুস্থ জীবনধারা → সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।
মানসিক স্বাস্থ্য → পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কাউন্সেলিং বা সহায়ক গ্রুপ এর সাহায্য নেওয়া।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনযাপনের টিপস
চলাফেরার সাহায্যকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করুন (লাঠি, ওয়াকার)
দৈনন্দিন কার্যক্রম সঠিক পরিকল্পনা এবং ধীর গতিতে করুন যাতে ক্লান্তি এড়িয়ে চলা যায়
বাড়িকে নিরাপদ রাখুন ( পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করুন, প্রয়োজনীয় সকল জায়গায় হাতল ব্যবহার করুন)
একাকিত্ব এড়িয়ে চলুন এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকুন
আপনার কী করণীয় ?
প্রতিটি উপসর্গের তথ্যগুলো লিখে রাখুন : তারিখ, কী ঘটল, কত সময় স্থায়ী ছিল
উপসর্গ ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো ওষুধ বন্ধ করবেন না বা পরিবর্তন করবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও এমআরআই করুন
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের চিকিৎসা কোথায় পেতে পারেন?
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালসম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (Combined Military Hospital (Dhaka))References:
https://radiopaedia.org/articles/mcdonald-diagnostic-criteria-for-multiple-sclerosis-4
https://www.nationalmssociety.org/understanding-ms/what-is-ms/how-ms-is-diagnosed
https://journals.sagepub.com/doi/10.1177/1352458517751049?url_ver=Z39.88-2003&rfr_id=ori:rid:crossref.org&rfr_dat=cr_pub%20%200pubmed.
Mayo Clinic