স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফি (এসএমএ)
:quality(90)/)
স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি কি?
স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (বা এসএমএ) একটি জিনগত ব্যাধি যা মেরুদণ্ডের স্নায়ু কোষকে প্রভাবিত করে।রোগটি সম্পূর্ণ শরীরে বিস্তৃত হওয়ায় পেশির পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গকেও প্রভাবিত করে।
এসএমএ সারভাইভাল মোটর নিউরন-১ (এসএমএন১) জিনের মিউটেশনের কারণে ঘটে, যা এসএমএন প্রোটিনের ঘাটতির দেখা দেয়। এসএমএন প্রোটিন সারা শরীরে পাওয়া যায় এবং পেশি কার্যক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কার্যকরী এসএমএন প্রোটিন এর স্বল্প মাত্রার ফলে স্নায়ু কো ষ দুর্বল হয় ও কার্যক্ষমতা হারায়, যার ফলে শারীরিক শক্তি এবং হাঁটা, খাওয়া বা শ্বাস নেওয়ার সক্ষমতা হ্রাস পায়।
স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফি (এসএমএ) তে আক্রান্ত হয়ে থাকে...

বিশ্বব্যাপী ১০,০০০ শিশুর মধ্যে গড়ে ১ জন শিশু
সাধারণত শৈশবে ধরা পড়া এ রোগটি, জিনগত কারণে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ।
সারভাইভাল মোটর নিউরন ১ (এসএমএন১) নামক জিন-এর ত্রুটির ফলে এসএমএ হয়ে থাকে, যার ফলে দেহে এসএমএন প্রোটিনের স্বল্পতা দেখা দেয়।
দেহে অবস্থিত প্রায় একই রকম দুটো জিন এসএমএন প্রোটিন তৈরি করে:
এসএমএন১ জিন
পেশি নিয়ন্ত্রণ এবং সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল এসএমএন প্রোটিন প্রস্তুত করে
এসএমএন২ জিন
পেশি কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ১০% প্রস্তুত করে
সুস্থ শিশু
দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া বজায় রাখতে এসএমএন ১ জিন পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রস্তুত করতে সক্ষম
এসএমএ আক্রান্ত শিশু
এসএমএ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এসএমএন ২ জিন এর উপর নির্ভরশীল হতে হয় যা পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্যকর এসএমএন প্রোটিন প্রস্তুত করতে অক্ষম2
:quality(90)/)
কার্যকরী এসএমএন প্রোটিন এর স্বল্প মাত্রার ফলে শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু কোষ দুর্বল হয় ও কার্যক্ষমতা হারায়।
কিভাবে এসএমএ ট্রান্সমিশন কাজ করে?
গড়ে প্রতি ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তি এ রোগের বাহক। আক্রান্ত জিন বহনকারী দুই ব্যক্তি যখন একটি শিশু জন্ম দেয়, তখনঃ
এসএমএ আক্রান্ত একটি শিশু জন্মাবার ঝুঁকি থাকে ২৫%
৫০% সম্ভাবনা থাকে শিশুটি একজন উপসর্গবিহীন বাহক হওয়ার
২৫% সম্ভাবনা থাকে শিশুটি আক্রান্তনা হওয়ার
এসএমএ আক্রান্ত নয় এমন একজন বাহকের শরীরে একটি স্বাভাবিক ও একটি ত্রুটিপূর্ণ এসএমএ১ জিন থাকে যা বাহ্যিক ভাবে কোন ধরণের উপসর্গপ্রকাশ করে না।
দ্রুত সনা ক্তকরণের উপায়
এসএমএ (SMA) রোগের চিকিৎসায় দ্রুত রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি। শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন:
ফ্লপি বেবি (Hypotonia): জন্মের ৩ মাস পরেও শিশুর ঘাড় সোজা না হওয়া কিংবা শরীর অস্বাভাবিক ভাবে নরম বা শিথিল মনে হওয়া।
ব্যাঙের মতো বসার ভঙ্গি (Frog-leg Position): চিত হয়ে শুয়ে থাকার সময় শিশুর পা দুটি হাঁটু থেকে ভেঙে বাহিরের দিকে ব্যাঙের পায়ের মতো সম্পূর্ণ ছড়িয়ে থাকা।
শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া: শিশু নিজে নিজে বসতে শেখার পর ধীরে ধীরে সেই সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। (1,3)
দুর্বল ফুসফুস ও শ্বাসকষ্ট (Paradoxical Breathing): ফুসফুসের পেশি দুর্বল হওয়ায় শ্বাস নেওয়ার সময় বুক না ফুলে পেট ওঠানামা করা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া।
প্রথমে কোন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?
যেকোনো পরীক্ষা করানোর আগে একজন অভিজ্ঞ শিশু নিউরোলজিস্ট বা নিউ রোমেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও লিখিত রেফারেন্স নেওয়া জরুরি।
বিশেষায়িত এসএমএ (SMA) ক্লিনিক
হাসপাতাল: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল
ক্লিনিক: নিউরোমাসকুলার ক্লিনিক, রুম ৪০২
সময়সূচি: প্রতি বুধবার | সকাল ৯:০০ – দুপুর ১২:০০
ঠিকানা: শহীদ শাহাবুদ্দিন রোড, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ
ফোন: +880 2-41024584
প্রাথমিকভাবে যে বয়সে উপসর্গ দেখা দেয় তার উপর ভিত্তি করে মূলত ৩ ধরনের এসএমএ রয়েছে।
ধরণ ১
এটি ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় এবং রোগের স্বাভাবিক গতিবিধি অনুসারে, অল্প সংখ্যক শিশুই দুই বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকে।
গুরুতর পেশি দুর্বলতার কারণে যে শিশুরা সাধারণত হাইপোটোনিক হয়, তাদের জন্য মাথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং হাত ও পা উপরে তোল া কষ্টসাধ্য।
এই সকল শিশুদের স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতেও অনেক কষ্ট হয়।
এই শিশুরা সাহায্য ছাড়া কখনই বসতে এবং গড়াগড়ি করতে পারবে না।
ধরণ ২
এই ৭-১৮ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে পেশি দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যায় এবং মৃত্যু ঝুঁকি থাকে।
এসএমএ ধরন ২ এর শিশুরা কখনই হাঁটতে পারবে না।
পেশি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে কিছু শিশুর মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায় যাকে বলা হয় স্কোলিওসিস।
অনেক রোগীর শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি গলাধঃকরণে সমস্যা হয়।
অনেকে বসার ক্ষমতা অর্জন করে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সক্ষমতা হারিয়ে যায়।
ধরণ ৩
এটি ১৮ মাস বয়সের পরে বিকশিত হয় এবং শৈশব/বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত স্পষ্ট নাও হতে পারে।
রোগী পেশি দুর্বলতায় আক্রান্ত হয় যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হয়ে থাকে।
এসএমএ ধরণ ৩ এর অন্তর ্ভুক্ত অনেক শিশু হাঁটতে শিখবে, কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে এসে ক্ষমতা হারিয়ে যাবে।
মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক কম।
হাতের তুলনায় পা বেশি দুর্বল হয়ে যায়।
এসএমএ (SMA) শনাক্তকরণে কী কী পরীক্ষা করা হয়?
এসএমএ রোগের সঠিক ডায়াগনোসিসের জন্য মূলত নিচের পরীক্ষাগুলো করা হয়ে থাকে:
জেনেটিক টেস্ট (MLPA / PCR Test): এটি এসএমএ শনাক্তকরণের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বা মূল পরীক্ষা। এর মাধ্যমে রক্তে SMN1 জিনের মিউটেশন বা অনুপস্থিতি এবং SMN2 জিনের কপি সংখ্যা (Copy Number) পরীক্ষা করা হয়।
ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) ও নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি (NCS): পেশির দুর্বলতা স্নায়ুজনিত কিনা এবং মোটর নিউরনের সংবেদনশীলতা পরিমাপের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK Test): রক্তে সি কে প্রোটিনের মাত্রা দেখে পেশির ক্ষতির মাত্রা বোঝা যায়।
পেশির বায়োপসি (Muscle Biopsy): বর্তমানে জেনেটিক টেস্ট সহজলভ্য হওয়ায় এটি খুব একটা করা হয় না, তবে বিরল ক্ষেত্রে অন্য কোনো নিউরোমাসকুলার ব্যাধি পৃথক করার জন্য প্রয়োজন হতে পারে।
এসএমএ শনাক্তকরণে 'জেনেটিক টেস্ট' কেন জরুরি?
এসএমএ নিশ্চিত করার জন্য রক্ত পরীক্ষা বা জেনেটিক টেস্টই একমাত্র বৈজ্ঞানিক পথ:
SMN1 জিনের অনুপস্থিতি নির্ণয়: শরীরে SMN1 জিনের রূপান্তর বা অনুপস্থিতি নিশ্চিত করার এটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
রোগের ধরন (Type) ও চিকিৎসা পরিকল্পনা: SMN2 জিনের কপি সংখ্যা দেখে রোগের টাইপ (Type 1, 2, or 3) নির্ধারণ করা যায়, যা সঠিক চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
পেশির স্থায়ী ক্ষতি রোধ: লক্ষণ স্থায়ী রূপ নেওয়ার আগেই রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসা শুরু করা যায়, যা স্নায়ুকোষ বা মোটর নিউরন ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচায়।
বাংলাদেশে জেনেটিক টেস্ট কোথায় করাবেন?
বাংলাদেশে এসএমএ রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করার '